বুদ্ধেশ্বর টুডু, সাতুড়িঃ সাঁওতাল সমাজের ঐতিহ্য বাহী পরম্পরা গত সেঁদরা ও ল-বির বাইসি (লে-বির- সেঁদরা) প্রতি বছর (এই বছর ৩০শে জুন-২ রা মে ২০২৬) বৈশাখ পূর্ণিমায় অযোধ্যায় অনুষ্ঠিত হয়। এই সেঁদরা ল-বির বাইসি তে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাঁওতাল সমাজের শুধুমাত্র পুরুষ মানুষই জাতীয় অস্ত্র, তিরয়া বানাম নিয়ে আগের দিন গিপিতিড় তান্ডিতে জমায়েত হয়। এই জমায়েত এ নানান ধরনের সেঁদরা সেরেঞ (গান) গাওয়া ও কাহিনি শোনানো হয়। অপরদিকে ডিহরি বাবা গলবুনুম, হাতি খুন্তাও, মারাবুরু পূজাভতে গাঁগা বুড়ু করেন। পরের দিন দিশোয়াওগান বুরু সেঁদরা করে সূতান্তান্ডিতে নেমে আসেন। ডিহরি বাবা সেঁতেঞভাতি ও সূতান্তান্ডিতে খঁগা বুরুর পর ডিহরি বাবার সভাপতিত্বে ল-বির বাইসির শুভ সূচনা হয়। এই ল-বির বাইসি হল সাঁওতাল সমাজের পার্লাম্যিন্ট/ সুপ্রিমকোর্ট। এখানে যেমন সমাজের বিভিন্ন আইন কানুন সংশোধন, সংযোজন, বিয়োজন হয় তেমনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অমীমাংসিত মামলা গুলোর বিচার হয়। সমাজের একমাত্র পুরুষ মানুষেরাই এই ল-বির সেঁদরা তে অংশগ্রহণ করে। এখানে নারী দের উপস্থিতি নিষিদ্ধ। এই ল-বির -সেঁদরা একমাত্র সাঁওতাল জাতির ঐতিহ্য। বর্তমানে বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠী সেঁদরায় প্রবেশ করে সেঁদরা ল-বির বাইসির ঐতিহ্য কলুষিত করার চক্রান্ত চালাচ্ছে। তাই বার বার আয়োজকদের পক্ষ থেকে লিফলেট প্রচার করে ঐ দিনটিতে সাঁওতাল ব্যাতীত অন্যনাদের সূতান্তান্ডি তে প্রবেশ না করার বার্তা দিয়ে আসছেন। এই নির্দিষ্ট দিনে কেবল মাত্র সাঁওতাল জাতির মানুষ ই সূতান্তান্ডিতে ল-বির বাইসি তে প্রতিনিধিত্ব করেন। পুরুষ মানুষ এর অযোধ্যা সেঁদরা ও ল-বির বাইসি তে যাওয়া এক গর্বের বিষয়, সাঁওতালি তে প্রবাদ আছে “যে পুরুষ মানুষ অযোধ্যা সেঁদরায় যায়নি সে এখনো মাতৃগর্ভে রয়ে গেছে”।
সেঁদরাল ফলে বন্যপ্রাণ বিলুপ্ত হচ্ছে অনেকে সেঁদরা কে শিকার উৎসব হিসাবেও দাগিয়ে দিচ্ছে। এই অভিযোগ ও উৎসব হিসাবে দাগিয়ে দেওয়া মোটেই কাম্য নয়। আর বনদপ্তর বিভিন্ন আইনের প্রয়োগ এর মাধ্যমে সেঁদরা- ল-বির বাইসির মতো ঐতিহ্য কে বন্ধ করার চক্রান্ত চালাচ্ছে বলে অনেক সময় অভিযোগ ওঠে। সাঁওতাল সমাজের পক্ষ থেকে প্রতিবন্ধর জঙ্গল বন্যপ্রান রক্ষায় সেঁদরার আহ্বান জানানো ছাড়াও প্রতি বছর জেলা জজের সভাপতিত্বে হিউম্যান কমিটির আলোচনার মাধ্যমে বন্যপ্রাণ বাঁচিয়ে সেঁদরা লবির বাইসি সুভঠ ভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা মেডিকেল টিম এর ক্যাম্প এর ব্যবস্থা করার মাধ্যমে বরাবর সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে এসেছে। সাঁওতাল সমাজের সুপ্রিমকোর্ট ল-বির বাইসির আয়োজক ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহল প্রতি বছর সেঁদরা ল-বির বাইসিতে দিপ্তায়নের জন্য পর্যাপ্ত পানীয় জল মেডিকেল টীমের ব্যবস্থা, ল-বির বাইসি অনুষ্ঠানে মাইক্রোফোন ব্যবহারের , বৈদ্যুতিক লাইন সরবরাহের অনুমতি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর কে চিঠি দিয়ে আসছে সেই মতো পরিষেবাও পেয়ে আসছে। দূরদূরান্ত থেকে আসা দিপ্তওগণ এর যাতায়াতে কোন অসুবিধা যাতে না হয় তনা রেল দপ্তর কেও অবগত করা হয় এবং সহযোগিতাও ও দিয়ে আসছে। তবে দুঃখের বিষয় এটিই পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের তহবিল থেকে ২৪০১২৮১/- টাকা বরাদ্দে সূতান্তান্ডিতে ল-বির বাইসি মুক্ত মঞ্চ নির্মাণ করে তার তার সাইন বোর্ড ও লেখা হয় পরবর্তীতে কে বা কারা মুছে ফেলে গড়ধাম লিখে দেয় যা আদিবাসী গোষ্ঠীর মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। প্রশাসন এ বিষয়ে এখনো নির্ধিকার। একটি মাত্র দিনের জন্য ও এই মুক্ত মঞ্চের ব্যবহারে আদিবাসী গোষ্ঠীর একাংশে ই যেন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে যা মোটেও কাম্য নয়।
বিভিন্ন গন মাধ্যমে বার বার ই প্রশ্ন উঠে আইন রয়েছে, বন দপ্তর রয়েছে, বন মন্ত্রনালয় রয়েছে তবুও বন্যঞ্চাল ও বন্যপ্রাণ আজ হ্রাসের পথে অনেক বন্যপ্রাণী আজ অস্তিত্বের সংকটে এর দায় কে নেবে?? এই প্রশ্ন মেকী পরিবেশ প্রেমী সংগঠন গুলো কি কোনদিন করেছে?
“বেঁচে থাক বন্য প্রাণ – প্রকৃতি, অটুট থাকুক ঐতিহ্য, সমাজ সংস্কৃতি সেঁদরা ল-বির বাইসি, জীববৈচিত্রে ভরে উঠুক সবুজ প্রকৃতি”।
















