বিশ্ব আদিবাসী দিবসে আদিবাসী ধাত্রীদের সম্মান
প্রতিবেদক : আশমান হাঁসদা
সারা বিশ্বের আদিবাসীদের অধিকার রক্ষা,তাদের স্বতন্ত্র জ্ঞানকে মর্যাদা দেওয়া,সারা বিশ্বব্যাপী আদিবাসীদের অবদান,সর্বোপরি আদিবাসীদের ভাষা-সংস্কৃতি-ঐতিহ্য- রীতিনীতিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ ৯ আগস্ট দিনটিকে বিশ্ব আদিবাসী দিবস হিসেবে ১৯৯৪ সাল থেকে পালন করে আসছে। বিশ্বের প্রায় ৯০টি দেশে ৪৭৬ মিলিয়ন আদিবাসী মানুষ জন বসবাস করেন যা বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় ৬ শতাংশের কম। মোটামুটি সাত হাজার আদিবাসী ভাষা এবং পাঁচ হাজার বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির তারা প্রতিনিধিত্ব করেন। সম্মিলিত জাতিপুঞ্জও উপলব্ধি করতে পেরেছেন আদিবাসীদের ভাষা সংস্কৃতি ঐতিহ্য এবং রীতিনীতির মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে পৃথিবীর প্রাণের স্পন্দন। পরিসংখ্যান বলছে প্রতি দুই সপ্তাহে একটি করে ভাষা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। ভাষা বিলুপ্ত হওয়ার অর্থ সেই ভাষার সঙ্গে জড়িত মানুষজনের সংস্কৃতি-জীবন-আদর্শ- রীতিনীতি তথা ঐতিহ্যের বিলোপ ঘটা। আদিবাসী জনগোষ্ঠী যেহেতু কোন দেশেই প্রভাবশালী গোষ্ঠী নয় তাই তাদের ভাষা রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক ভাবে সংশ্লিষ্ট দেশের প্রভাবশালী গোষ্ঠী দ্বারা অনবরত সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। সেজন্য সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ আদিবাসীদের ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য ২০২২ থেকে ২০৩২ সালকে আন্তর্জাতিক আদিবাসী ভাষা দশক হিসেবে ঘোষণা করেছে। আদিবাসীদের ইতিহাস নিরন্তর লড়াই সংগ্রামের ইতিহাস। প্রাগৈতিহাসিক যুগে জীবন সংগ্রাম থেকে শুরু করে উপনিবেশিক যুগে স্বাধীনতার সংগ্রাম থেকে বর্তমানের ধনতান্ত্রিক পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় আদিবাসীদের নিরন্তর অস্তিত্ব রক্ষার জন্য বা জল-জঙ্গল-জমির অধিকার রক্ষার জন্য সংগ্রাম করতে হচ্ছে।
সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ এই বছর অর্থাৎ 2026 বিশ্ব আদিবাসী দিবসকে উৎসর্গ করেছে আদিবাসী ধাত্রীদের। এই বছরের থিম “Honouring Indigenous Midwives: Safeguarding Life and Well-being” বা “আদিবাসী ধাত্রীদের সম্মান:জীবন এবং সুস্থতা রক্ষায় তাদের ভূমিকা”। আদিবাসী ধাত্রী বা ধাইমা প্রসূতি মায়েদের যত্ন পরিচর্যা করে নতুন প্রানের স্পন্দন কে প্রজন্মের পর প্রজন্মে সঞ্চারিত করছেন।তাদের পারম্পরিক অর্জিত জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণ ঘটিয়ে যুগ যুগ ধরে তারা পরিষেবা দিয়ে আসছেন। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান আবিষ্কার হওয়ার পূর্ব থেকেই শত সহস্র বছর ধরে মানব সভ্যতার ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আদিবাসী ধাত্রীমাদের অবদান চিরস্মরণীয় এবং একই সাথে তাদের অবদান বিস্ময়কর। শুধু প্রসূতি মায়েদের যত্ন নেওয়া,প্রসূতি মায়েদের সন্তান প্রসবের সাহায্য করাই শুধু নয় নবজাতকের যত্ন অত্যন্ত যত্নশীল ভাবে তারা করে এসেছেন।বর্তমানে কিন্তু আদিবাসীরাও বাড়িতে প্রসবের থেকে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবে উৎসাহী এবং আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আধুনিক সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করছেন। কিন্তু তাই বলে শত সহস্র বছর ধরে প্রসূতি সেবিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা আদিবাসী ধাত্রী মায়েদের অবদান বা মূল্যায়ন কম হয়ে যায় না।
তথ্য উৎস : www.un.org















