Introduction:
ভারত সরকার সীমান্ত নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো জোরদার করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রেল মন্ত্রক উত্তরবঙ্গের ভারত-চীন-ভুটান ত্রি-সংযোগস্থলের কাছে ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নতুন কৌশলগত রেললাইন, জলঢাকা প্রকল্প নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে। সমগ্র প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় হবে প্রায় ২৭২ কোটি টাকা।
প্রকল্পের পথ ও পরিধি
নতুন রেল নেটওয়ার্কটি উত্তরবঙ্গের চালসার নিকটবর্তী খুনিয়া মোড় থেকে শুরু হয়ে জলপাইগুড়ি ও কালিম্পংয়ের বনভূমির মধ্য দিয়ে জলঢাকা পর্যন্ত যাবে। প্রকল্পটি ভারতীয় রেলের আলিপুরদুয়ার রেলওয়ে বিভাগের অধীনে থাকবে। যেহেতু এই পথটি চাপরামারি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের মতো পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকার মধ্যে দিয়ে গেছে, তাই বর্ষার পর বন ও বন্যপ্রাণী বিভাগের সঙ্গে যৌথ সমীক্ষা শুরু হবে।
কৌশলগত এবং ভৌগোলিক গুরুত্ব
নিরাপত্তা ও সংযোগের দৃষ্টিকোণ থেকে এই রেলপথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জলঢাকা নদীর উৎপত্তি সিকিমের জিলেপ লা গিরিপথের নিকটবর্তী কুপুপ হ্রদ থেকে, যা ডোকলাম ত্রি-সংযোগ সীমান্তের খুব কাছে অবস্থিত। এটি সেই ডোকলাম এলাকা, যেখানে ২০১৭ সালে ভারত ও চীনের সেনাবাহিনী ৭৩ দিনব্যাপী এক অচলাবস্থায় লিপ্ত ছিল। সীমান্তের কাছে চীনের চলমান অবকাঠামো নির্মাণের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত কৌশলগত বলে মনে করা হচ্ছে।
পর্যটন এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধা
দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা এবং জলপাইগুড়ির সাংসদ ডঃ জয়ন্ত রায় এই প্রকল্পের প্রশংসা করে বলেছেন, এটি শুধু জাতীয় নিরাপত্তাই জোরদার করবে না, ডুয়ার্স অঞ্চলে পর্যটনকেও উৎসাহিত করবে। এই রেল সংযোগ জলঢাকা, বিন্দু, তোড়ে এবং টাংটার মতো প্রত্যন্ত সীমান্ত এলাকার মানুষের যাতায়াতের সুবিধা দেবে। রেল কর্মকর্তাদের মতে, চালসা থেকে সীমান্তের দিকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার লাইন স্থাপনের পরিকল্পনা চলছে।















